আজ শুক্রবার, , ২০ অক্টোবর ২০১৭ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৯:২৮

সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় নিউইয়র্কে গোলাপগঞ্জ সোসাইটির মতবিনিময় সভা

নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটি'র উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী টিলা পরিবেষ্টিত গ্রামগুলো হারিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আসা পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক ও গোলাপগঞ্জের কৃতি সন্তান আব্দুল করিম কিমকে নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ উদ্বেগ জানানো হয় ।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জ্যামাইকাতে তাজমহল রেস্টুরেন্টে সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবাদ আহমদ চৌধুরী।

সাংবাদিক হেলিম উদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় মূলবক্তা হিসাবে আব্দুল করিম কিম পরিবেশ আন্দোলন সম্পর্কে ধারণা বক্তব্য দিয়ে বলেন, একশ্রেণীর মানুষের অজ্ঞতার কারণে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী টিলা পরিবেষ্টিত গ্রামগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির অনন্য বৈশিষ্ট্য পাহাড়-টিলা নির্বিচারে কেটে ফেলে সমতল করায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে টিলা মাটিতে জন্ম নেয়া বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। টিলার ঝোপঝাড়ে বসত করা বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। টিলাকাটা বালি বিভিন্ন বিল-হাওড়, খাল ও নদীকে ভরাট করছে।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়েই রায়গড়, শিলঘাট, আমনিয়া, আমুড়া, কদমরসুল, রনকেলি, ঢাকাদক্ষিন, ফুলবাড়ি, বাঘা, ভাদেশ্বর ইত্যাদি গ্রামে স্বচক্ষে টিলা কাটার চিত্র দেখেছি।

তিনি এ অপকর্ম থামাতে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন বলেন, গোলাপগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলের পাহাড়-টিলা রক্ষায় পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রবাসী সামাজিক সংগঠনগুলো চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি নিজ নিজ গ্রামে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে পারে।

নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটির সভাপতি শেরওয়ান চৌধুরী বলেন, আমরা প্রবাসীরা দেশে স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা-মসজিদ তৈরিতে যথেষ্ট অবদান রেখেছি। কিন্তু ফেলে আসা দেশের পাহাড়-টিলা-নদী-হাওড় যদি না থাকে তাহলে কিভাবে হবে।

তিনি পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে সর্বাত্মক ভাবে যুক্ত থাকার অঙ্গিকার করেন ।

গীতিকার ইশতিয়াক রুপু বলেন, গোলাপগঞ্জ আমার নানার বাড়ি। আমনিয়া, আমুড়ার ছোট-বড় টিলার কথা দূর প্রবাসে বসেও মনে পরে। এসব পাহাড়-টিলা রক্ষা করতে হবে ।

সাংবাদিক হেলিম আহমদ বলেন, গোলাপগঞ্জের সন্তান আব্দুল করিম কিম শুধু সিলেট বিভাগ নয়, বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় গত একযুগ ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই নি:স্বার্থ দেশ সেবায় আমরা গৌরবান্বিত। পরিবেশ রক্ষার লড়াইকে প্রবাসীরাও এখন থেকে গুরুত্ব দেবে ।

সভাপতির বক্তব্যে এবাদ আহমদ চৌধুরী বলেন, পাহাড়-টিলা বিল-হাওড়, নদী-খাল রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। দেশকে ফেলে এসেছি। কিন্তু দায়িত্ব ফেলে আসিনি। আমরা দেশের জন্য, গ্রামের জন্য, পরিবারের জন্য কিছু না কিছু করে যাচ্ছি। পরিবেশ বিপর্যয়রোধে নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটি অচিরেই করনীয় নির্ধারণ করবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেখ আতিকুল ইসলাম, সৈয়দ সেলিম, আব্দুল মোমিত চৌধুরী উমেল, সাইফুল খাঁন হারুন, মিসবাহ উদ্দিন, রেশাদ চৌধুরী, রাফাত চৌধুরী প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত