আজ বুধবার, , ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং

রেজা ঘটক

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০১:৪০

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘কান্ট্রি উইদাউট বর্ডার’ আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী

শিল্পের সুনির্দিষ্ট কোনো দেশ নেই, নেই কোনো জাতিভেদ, নেই কোনো স্থির সীমারেখাও। একজন সত্যিকারের শিল্পী কখনো কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখায় বাঁধাও পড়েন না। শিল্প ও শিল্পীর এই সীমাহীন বোধ নিয়ে ‘কান্ট্রি উইদাউট বর্ডার’ শিরোনামে আজ থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক দলীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনী।

এ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ও ভারতের মোট চার জন শিল্পী। বাংলাদেশ থেকে শিল্পী চারু পিন্টু ও এশা জাবিন এবং ভারত থেকে শিল্পী পিনাকি আচার্য ও অশোক কুমার দে।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বিকেল চারটায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলর্টানেটিভ 'ইউডা'-এর চারুকলা অনুষদের চেয়ারম্যান বরেণ্য শিল্পী প্রফেসর শাহজাহান আহমেদ বিকাশ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাংবাদিক অঞ্জন রায়, বরেণ্য আবৃত্তিকার শিমুল মুস্তাফা, সাহিত্য পত্রিকা 'দ্রষ্টব্য'র সম্পাদক ও কবি কামরুল হুদা পথিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এমরান কবির চৌধুরী প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন 'কান্ট্রি উইদাউট বর্ডার-বাংলাদেশ'-এর আহ্বায়ক কথাসাহিত্যিক ঋষি এস্তেবান।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ও ভারতের চার শিল্পীর মোট ৩৯টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চলবে। প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

‘কান্ট্রি উইদাউট বর্ডার’ শিরোনামের এ আন্তর্জাতিক দলীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে শিল্প সাহিত্যের ম্যাগাজিন 'ভিন্নচোখ'।

প্রদর্শনী আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক লেখক ঋষি এস্তেবান প্রদর্শনী সম্পর্কে বলেন, মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের বিভিন্ন দেশের শিল্পী-সাহিত্যিকদের ঐক্যবদ্ধভাবেই সাংস্কৃতিক চর্চা চালিয়ে নিতে হবে। বিশ্ব মানচিত্রে বিভিন্ন দেশের ভৌগলিক সীমারেখা থাকলেও শিক্ষা-সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকতে পারে না। শিল্পী এবং শিল্প কোন সীমান্তের তোয়াক্কাও করে না। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো বাণিজ্যিক এই পৃথিবীতে দীর্ঘদিন থেকেই সীমানা টেনে নেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। আমরা এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেই শিল্পী ও শিল্পের সেই সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে দিতে চাই। শিল্পী আর শিল্পের বাণিজ্যিক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আমরা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শিল্পীর শিল্পকর্মের সঙ্গে এদেশের শিল্পীর শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর মাধ্যমে একটা মজবুত সেতুবন্ধন তৈরি করতে চাই। আমাদের সেই লক্ষের প্রথমধাপ হিসেবে এই সময়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের দু'জন করে শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে এবারের প্রথম আয়োজনে করতে যাচ্ছি এই প্রদর্শনী।

‘কান্ট্রি উইদাউট বর্ডার’ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন সম্পর্কে 'ভিন্নচোখ'-এর সম্পাদক ও কবি আলী আফজাল খান বলেন, আমরা দেশের শিল্প-সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছি। এবার আমরা দেশীয় শিল্পীদের সঙ্গে অন্যদেশের শিল্পীদের নিয়ে একযোগে কাজ করতে চাই। এদেশের শিল্পী ও শিল্পের সঙ্গে অন্য দেশের শিল্পী এবং শিল্পকর্মের মধ্যে একটা সৌহার্দ গড়ে তোলার প্রয়াস হেসেবে এই আন্তর্জাতিক দলীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি। এবার আমরা আমাদের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ ভারতের দু'জন শিল্পীকে আমন্ত্রণ করেছি।

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কর্ণধার প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ‘কান্ট্রি উইদাউট বর্ডার’ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী উপলক্ষে বলেন, এটি একটি সুন্দর উদ্যোগ। আমি তো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র নিয়েই ব্যস্ত থাকি। এখানে একটি চিত্রশালা করেছি। এখন শিল্পীরা এগিয়ে এসে নিয়মিত এই চিত্রশালায় প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিলে তা আমাদের সংস্কৃতি চর্চাকে আরো মজবুত করবে। আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে এভাবেই আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

‘কান্ট্রি উইদাউট বর্ডার’ আন্তর্জাতিক দলীয় প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের শিল্পী চারু পিন্টু'র শিল্পকর্মের শিরোনামগুলো হলো- 'ক্রুনিং অব দ্য ডেড সিটি-১', 'ক্রুনিং অব দ্য ডেড সিটি-২', 'ক্রুনিং অব দ্য ডেড সিটি-৩', 'ক্রুনিং অব দ্য ডেড সিটি-৪', 'ক্রনিকল অব অ্যানসিয়েন্ট স্লানবার', 'মোনাসটারি অব ফায়ার', 'ইন সার্স অব হোমল্যান্ড', 'দ্য আনওয়াইজ ম্যান অব রিকাও হিলস' ও 'এ প্রমিজ টু রিটার্ন'।

বাংলাদেশের অপর শিল্পী এশা জাবিনের শিল্পকর্মের শিরোনামগুলো হলো- 'আনটাইটেলড-১', 'আনটাইটেলড-২', 'আনটাইটেলড-৩', 'ওয়ে অব এক্সপ্রেশান', 'লাইফ ইজ এভরিহোয়ার', 'ডেলিসিয়েট মাই সিটি নাইটমেয়ার-১', 'ডেলিসিয়েট মাই সিটি নাইটমেয়ার-২', 'এডেঞ্জারড বিউটি', 'ব্যাংক অব ট্রি' ও 'আনটাইটেলড-১০'।

ভারতের শিল্পী পিনাকি আচার্যের শিল্পকর্মের শিরোনামগুলো হলো- 'আনটাইটেলড ডায়লগস (২০১৬)-১', 'আনটাইটেলড ডায়লগস (২০১৬)-২', 'আনটাইটেলড ডায়লগস (২০১৬)-৩', 'আনটাইটেলড ডায়লগস (২০১৬)-৫', 'আনটাইটেলড ডায়লগস (২০১৬)-৬', 'আনটাইটেলড ডায়লগস (২০১৬)-৭', 'টুওয়ার্ডস দ্য ননকনসেপ্টুয়াল (২০১৬)-২', 'টুওয়ার্ডস দ্য ননকনসেপ্টুয়াল (২০১৪)-৫', 'টুওয়ার্ডস দ্য ননকনসেপ্টুয়াল (২০১৬)-৬' ও 'টুওয়ার্ডস দ্য ননকনসেপ্টুয়াল (২০১৬)-৭'।

ভারতের অপর শিল্পী অশোক কুমার দে'র শিল্পকর্মের শিরোনামগুলো হলো- 'আনটাইটেলড-১', 'আনটাইটেলড-২', 'আনটাইটেলড-৩', 'আনটাইটেলড-৪', 'আনটাইটেলড-৫', 'আনটাইটেলড-৬', 'আনটাইটেলড-৭', 'আনটাইটেলড-৮', 'আনটাইটেলড-৯' ও 'আনটাইটেলড-১০'।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত