আজ বুধবার, , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:৩১

রাবি শিক্ষিকার ‘আত্মহত্যা’: অভিযোগপত্রে ‘মনগড়া’ তথ্যের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষিকা আকতার জাহান জলি ‘আত্মহত্যা’ প্ররোচনা মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে ‘মনগড়া’ তথ্য দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভাগের শিক্ষকেরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করা হয়।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিভাগের সভাপতি প্রদীপ কুমার পাণ্ডে দাবি করেন, “অভিযোগপত্রে আমাদের সাতজন শিক্ষকের নামে ১৬১ ধারায় যে জবানবন্দি দাখিল করা হয়েছে তা সত্য নয়। নানা রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সেখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। বস্তুত আমরা কেউ কোন জবানবন্দি দেইনি। পুলিশ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের কারো কারো সঙ্গে কথা বলেছেন আবার কারও সঙ্গে একেবারেই কথা বলেননি।”

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “আমরা পুলিশের কাছে বলিনি বা দাবি করিনি এমন অনেক মনগড়া তথ্য দিয়ে এ জবানবন্দি সাজানো হয়েছে। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বিভাগীয় বিষয়ে প্রত্যক্ষ যেসব অভিজ্ঞতার কথা সর্বসম্মতভাবে আমরা লিখিতভাবে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রশাসনকে জানিয়ে ছিলাম- তা শুধু পাশ কাটিয়েই যাওয়া হয়নি বরং উল্টোভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

সম্মেলনে আরও বলা হয়, “এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দিকে নজর না দিয়ে বরং আমাদের সহকর্মীবৃন্দকে অসম্মানিত ও হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। তাই আমরা এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচেষ্টার নিন্দা জানাই। একইসঙ্গে পুলিশি অনুসন্ধানে প্রাপ্ত প্রকৃত সত্য উপস্থাপনের দাবি জানাই।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মামলার ওই সাত সাক্ষীর মধ্যে বিভাগের সভাপতি প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সহকারী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার, মাহাবুবুর রহমান, আমেনা খাতুন এবং অন্যান্যদের মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান, এবিএম সাইফুল ইসলাম প্রভাষক আব্দল্লাহীল বাকীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।

এরআগে দুপুর ১২ টায় বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে আকতার জাহানর স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁকে স্মরণ করে বক্তব্য দেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

এদিকে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে আক্তার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এসময় বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, “আমরা আকতার জাহানের মৃত্যুকে সবসময়ই অস্বাভাবিক মৃত্যু বলেছি। কখনও এটাকে আত্মহত্যা বলিনি। প্রায় এক বছর পর শেষ পর্যন্ত যখন দেখলাম ২৫ আগস্ট এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সেখানে কিছু আজগুবি গল্প বানানো হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সত্যের পূজারি। আমরা মিথ্যাচার পছন্দ করি না। আমরা বলতে চাই, যে কথা আমরা বলিনি সেটা অভিযোগপত্রে দেখতে চাই না।”

জানতে চাইলে মামলার বাদী কামরুল হাসান বলেন, “আমি এখনো বিষয়টি জানি না। এমন হয়ে থাকলে এ মামলায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে। বিষয়গুলো ভালোভাবে জেনে আমি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

এ বিষয়ে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও নগরীর মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক ব্রজগোপাল কর্মকার বলেন, “তদন্ত করে আক্তার জাহানের সহকর্মী আতিকুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের দীর্ঘদিনের মোবাইলের ম্যাসেজ, কললিস্ট ঘাটাঘাটি করে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তারই ভিত্তিতে অভিযোগপত্র গঠন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিভাগের সাতজন শিক্ষকের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। সেগুলো অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেটাই শেষ কথা নয়। সাক্ষীরা আদালতে যা সাক্ষ্য দিবেন সেটাই রেকর্ড করা হবে।”

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের নিজের আবাসিক কক্ষের দরজা ভেঙে আকতার জাহান জলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধারের সময় একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।

চিরকুটে লেখা ছিল, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে (আকতার জাহানের ছেলে) যেন ওর বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে যে কোনও সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে।”

পরদিন এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

গত ২৫ আগস্ট সেই মামলায় আক্তার জাহানের সহকর্মী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমান রাজাকে চূড়ান্ত আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত