আজ শুক্রবার, , ১৮ আগস্ট ২০১৭ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ মে, ২০১৭ ১২:৩৯

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপির সাবেক সাংসদকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপির বগুড়া জেলার সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মোমেন তালুকদার ওরফে খোকাকে (৬৫) গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ ওই আসামির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আসামিকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল।

আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা ও গণহত্যার প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে থেকে মামলাটির তদন্ত করছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা জেএম আলতাফুর রহমান।

আবদুল মোমেন তালুকদার বগুড়া-৩ আসনের (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০১১ সালের ৮ মার্চ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাদের অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ এনে বগুড়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন আদমদীঘির কায়েতপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুবেদ আলী।

এরপর বিচারক বেগম সাবিনা ইয়াসমিন বাদীর অভিযোগ এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) হিসেবে গণ্য করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদমদীঘি থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলায় আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩০২ ধারাসহ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে রাজাকার বাহিনীর অন্যতম হোতা আবদুল মোমেন তালুকদার খোকা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মুনসুরুল হক তালুকদার টুলু, আবদুস সাত্তার, আবদুল জলিল ও আলতাফসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন আগে বাদীসহ ৩ মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার খোকা ও তার বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ তালুকদারের নেতৃত্বে আদমদীঘির কোমারপুর-আদমদীঘি রাস্তায় ঘেরাও করা হয়। মামলার বাদী সুবেদ আলী কৌশলে পালাতে পারলেও মুনসুরুল হক তালুকদার টুলু ও আবদুস সাত্তারকে তারা ধরে ফেলে এবং রাজাকার বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। একই কায়দায় তারা ওই ক্যাম্পে আরও বহুসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে এনে দিনের পর দিন নির্যাতনের পর ২৪ নভেম্বর তাদের একে একে গুলি করে হত্যা করে।

আব্দুল মোমেন তালুকদারের বাবা মরহুম আবদুল মজিদ তালুকদারের বিরুদ্ধেও মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার অভিযোগ ছিল। তৎকালীন মুসলিম লীগের অন্যতম নেতা মজিদ তালুকদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় আদমদীঘিতে শান্তি কমিটি গঠন করে নিজে ওই কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি গঠিত হওয়ার পর তিনি দলটিতে যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপির হয়ে একাধিকবার সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে তার মৃত্যুর পর ছেলে আবদুল মোমেন তালুকদার খোকা একই দলের এমপি নির্বাচিত হন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত