আজ রবিবার, , ২০ আগস্ট ২০১৭ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জুন, ২০১৭ ২৩:০৫

হুট করেই স্পোর্টস প্রজেক্ট বন্ধ করে দিলো বেঙ্গল, বিপাকে ৩০ সংবাদকর্মী

সাত মাস ধরে চলতে থাকা একটি ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম হঠাৎ করে বন্ধ করে দিয়েছে বেঙ্গল। বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা 'টোটাল স্পোর্টস' ও 'খেলাধুলা' নামের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার দুই অনলাইন পোর্টাল ও ম্যাগাজিন বন্ধ হয়ে যাওয়াতে ঈদের ঠিক আগে বিপাকে পড়েছেন সেখানে কর্মরত প্রায় ৩০ জন সংবাদকর্মী।

রোববার (১৮ জুন) ঈদের সপ্তাহ দিন আগে বিনা নোটিশে এই প্রজেক্ট বন্ধ করার ঘোষণা আসে।


প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত একাধিক সংবাদকর্মী জানান, কর্মরত সকলকে এক মাসের অগ্রিম বেতন নিয়ে চলে যেতে বলা হয়। কোন রকম ঈদ বোনাসও দেয়া হয়নি। কারো কারো চাকরি স্থায়ী হলেও তারাও ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত হন।  

জানা যায়, বেঙ্গলের এই স্পোর্টস প্রজেক্টে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ত্রিশের অধিক সংবাদকর্মী যুক্ত হয়েছিলেন। সাত মাস ধরে কাজও করেছিলেন, কিন্তু কোন পূর্বঘোষণা ব্যতিরেকে এটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর আগে একই প্রজেক্টের অধীনে সংস্কৃতি বিষয়ক শাখাও চালুর কথা ছিল। তখনো প্রজেক্টের নাম ঠিক করা হয়নি। সংস্কৃতি শাখার জন্যও লোক নিয়োগ দেয়া হয়। পরে সংস্কৃতি শাখা বন্ধ করে দেওয়া হলে কয়েকজন সংবাদকর্মী চাকুরি হারিয়েছিলেন।

খোঁজ জানা যায়, ২০১১ সালেও স্পোর্টস প্রজেক্ট চালু করে ছয় মাস পর বন্ধ করে দেয় বেঙ্গল। ২০১৫ সালের দিকে একই ফ্লোরে 'মিডিয়া বাংলাদেশ' নামক প্রতিষ্ঠান চালু করে বন্ধ করে দেয়া হয়। মাসখানেক আগে বন্ধ হয়ে যায় বেঙ্গলের মালিকানাধীন ম্যাঙ্গো মোবাইল ফোন কোম্পানি। দুই প্রজেক্টই বন্ধ হলো চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে।

আবুল খায়ের লিটুর মালিকানাধীন বেঙ্গল গ্রুপের বেঙ্গল ফাউন্ডেশন সবচেয়ে পরিচিত প্রতিষ্ঠান। তারই অন্য প্রতিষ্ঠান আইস মিডিয়া লিমিটেড 'টোটাল স্পোর্টস' ও 'খেলাধুলা' নামে বাংলা আর ইংরেজিতে দুটি সংবাদমাধ্যম বাজারে আনার উদ্যোগ নেয়। গত বছরের নভেম্বর থেকে সেখানে লোক নিয়োগ করা হয়। জানুয়ারি থেকে রাজধানীর বনানীতে পুরোদমে কাজ শুরু করে তারা।

বারবার প্রজেক্ট চালু করে আবার বন্ধ করে দেয়া প্রসঙ্গে আইস মিডিয়া লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সুলতান মাহবুবুল হকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "এসব জেনে আপনারা কী করবেন?"

মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান হিসেবে একসঙ্গে ৩০ সংবাদকর্মীর চাকুরি যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। কেন প্রজেক্ট বন্ধ করা হলো তার কারণ জানাতেও অপরাগতা প্রকাশ করেন মাহবুবুল।

এ ব্যাপারে  টোটাল স্পোর্টস প্রজেক্টের এক্সিকিউটিভ এডিটর জিনাত চৌধুরীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

টোটাল স্পোর্টসে সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করা রিদওয়ান আহমেদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সর্বশেষ কর্মদিবসেও আমরা অফিসিয়ালি জানতাম না এ প্রজেক্ট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক, আশাহত। এখানে অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া হাউস ছেড়ে এসেছিল, এখন এ অবস্থায় সকলেই সমস্যায় পড়ে গেছে।"

একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা প্রতিবেদক মুনরবি অমিয় বলেন, "এভাবে বন্ধ করে দেয়া অমানবিক ও অপমানজনক। প্রতিষ্ঠিত জায়গা ছেড়ে এসে এমন বিপাকে পড়তে হবে ভাবিনি। ভেবেছিলাম বেঙ্গল অন্য আট/দশটা মিডিয়ার মতো হবে না।"