আজ সোমবার, , ২১ আগস্ট ২০১৭ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:১৬

‘আমরা হতাশ, পুরা হতাশ’

রাজধানীর বহুল আলোচিত দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে দেয়া আটজনের মৃত্যুদণ্ড কমে হাইকোর্টে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছে বিশ্বজিতের পরিবার। রোববার বিকালে বিচারপতি মো: রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর যুগ্ম-বেঞ্চ এ রায় ঘোষণার পর বিশ্বজিতের ভাই উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘রায়ের আগ পর্যন্ত চিন্তাও করিনি যে এমন একটা রায় আসবে।

এ রায় নিয়ে এতদিন ধরে, আজও অনেকের সাথে কথা হইছে; কেউই বলেনি, চিন্তাও করেনি কেউ এমন হবে। হঠাৎ করে যা পাইলাম তাতে আমরা হতাশ, পুরা হতাশ।’

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে খুন হন বিশ্বজিৎ দাস।

এ হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, যার মধ্যে ১৩ জনই পলাতক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকার কারনেই আসামিরা পালিয়ে বেড়াতে পারছে বলে মনে করেন বিশ্বজিতের ভাই।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃংখলা বাহিনী ইচ্ছা করলে, চেষ্টা করলে পারে না এমন কিছু আছে? ছোট অপরাধ হলেও তো সব বের করে ফেলে। আর এদের পুরো পরিবার তো পলাতক না, চাইলেই বের করা যায়।’

উত্তম কুমার দাস আরো বলেন, ‘খুনিরা কোথায় কোথায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় সেটা তো পত্রিকায় আসে। সাংবাদিকরা বের করতে পারলে পুলিশ পারে না? চেষ্টা করলে ওরা পারতো, কিন্তু চেষ্টা নাই।’

হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখন দুই জনে নেমে আসছে, শেষপর্যন্ত হয়তো কিছুই হবে না, রাস্তার একটা লোককে ডেকে জিজ্ঞেস করলেও সে বলবে এটা কোনো বিচারই হয়নি। আমার মনে হয় না যে কেউ একজন বলবে এটা বিচার হইছে।’

বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার দাবিতে আবার সরব হবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতদিন বাবা মা বলতো চুপ থাকতে। তারা ভয় পেত, কি হয় না হয় সেজন্য। বলতো ঝামেলায় না যেতে। কিন্তু এখন আমাকে কথা বলতে হবে।’

গণমাধ্যম না থাকলে এতটুকু বিচারও হতো না বলে মনে করেন উত্তম।

তিনি বলেন, ‘সবটাই তো মিডিয়া করেছে। না হলে কোথাকার কোন বিশ্বজিৎ, তার কোনো নাম-গন্ধই থাকত না।’

উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর এ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক।

রোববারের রায়ে তাদের মধ্যে ২ জনের ফাঁসি বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া দুইজন খালাস পেয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত