আজ শুক্রবার, , ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:৩০

রোহিঙ্গা নির্যাতনের কথা শুনে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের মুখে পালিয়ে আসার আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়ন-নির্যাতনের বর্ণনা শুনে নিজের আবেগ সংবরণ করতে পারেন নি প্রধানমন্ত্রী, কাঁদলেন তিনি।

মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা ও তার পুত্রবধূ জ্যেষ্ঠ আইএমও কর্মকর্তা পেপী সিদ্দিক।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের দেখতে বেলা ১২টার দিকে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে সেখানে এক সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, 'মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা আপনাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা আপনাদের পাশে থাকব।'

রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি, ঘরবাড়ি হারিয়ে যেসব রোহিঙ্গা এখানে (বাংলাদেশে) এসেছেন, তারা সাময়িক আশ্রয় পাবেন। তাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন, সে ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।'

মিয়ানমার সরকারের প্রতি নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধেরও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

পরে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়া শিশু-নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় শেখ হাসিনাকে ভিটেমাটি ছেড়ে আসা রোহিঙ্গারা তাদের ওপর চালানো তাণ্ডবের কথা সবিস্তারে জানায়। নির্যাতন-নিপীড়নের এসব তথ্য শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর হেলিকপ্টারে সকাল সাড়ে ১১টায় পৌঁছান কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও ছিলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম এবং মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত