আজ রবিবার, , ২১ জানুয়ারী ২০১৮ ইং

অনলাইন প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারী, ২০১৮ ১১:৩৫

সরকারি প্যাভিলিয়নে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মোশতাকের ছবি

রাজধানীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় সরকারি এক প্যাভিলিয়নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে তাঁর খুনি খন্দকার মোশতাকের ছবিও স্থান পেয়েছে। এনিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের স্থপতির ছবির সঙ্গে খুনি মোশতাকের ছবি প্রদর্শনের এছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ভাইরাল হয়েছে।

বাণিজ্য মেলার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ নামের প্যাভিলিয়নে এই চিত্র স্থান পেয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের শীর্ষ ব্যক্তি। এর পর পরই হত্যাকারীদের পক্ষ অবলম্বন করে রাষ্ট্রপতির পদ নেন খন্দকার মোশতাক আহমদ। তারই ছবি এবার বাণিজ্য মেলায় বঙ্গবন্ধুর পাশে স্থান পেয়েছে।

প্যাভিলিয়নে বিশ্বজিৎ গোস্বামীর আঁকা একটি ছবিতে দেখা যায়, বাম পাশে বড় করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। ডানপাশে পোস্টারে লেখা ‘স্বাধীন বাংলা জয় বাংলা’। বঙ্গবন্ধুর ছবির নিচে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তারপর একে একে তাজউদ্দীন আহমদ, আবুল মনসুর আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান, এএমজি ওসমানী এবং খন্দকার মোশতাক আহমদের ছবি।

ছবির বর্ণনা দিয়ে চিত্র-২৩ এর বিবরণীতে লেখা রয়েছে, ‘২৫ মার্চ, ১৯৭১। রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, ট্যাংক-কামানসহ প্রচুর গোলা-বারুদ নিয়ে অতর্কিত নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ২৫ মার্চ রাত ১১টা থেকে ৭২ ঘণ্টা ধরে ঢাকা শহরকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করল। হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করল। ভয়ে মানুষ যে যেদিকে পারল পালাতে লাগল। শেখ মুজিবকে পাক সেনারা বন্দি করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে গেল। এদিকে চলল সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে জ্বালাও-পোড়াও গুলি ও ধ্বংসলীলা। আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতারা জড়ো হলেন কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে।’

চিত্রের বিবরণীতে আরও বলা হয়, ‘১৭ এপ্রিল ১৯৭১। মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকুঞ্জে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করলেন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন রাষ্ট্রপতি। যেহেতু তিনি তখন পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দি, তাই তার অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী হলেন তাজউদ্দীন আহমদ। অন্য মন্ত্রীরা হলেন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও খন্দকার মোশতাক আহমদ। প্রধান সেনাপতি হলেন কর্নেল এম এ জি ওসমানী।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হবার পর মোশতাক আহমদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবার পর তিনি ইনডেমিনিটি বিল পাশ করেন। তিনি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ চালু করেন। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ বেতার’ নাম পরিবর্তন করে ’রেডিও বাংলাদেশ’ করেন তিনি।

খন্দকার মোশতাকের আমলেই ৩ নভেম্বর চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত তিনি অঘোষিতভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর সেনাবিদ্রোহের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করা হয়।

বাণিজ্যমেলায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে খন্দকার মোশতাকের ছবি শেয়ার করে অনলাইন এক্টিভিস্ট জহিরুল হক বাপী ফেসবুকে লিখেন, বিষয়টা সরল নয়। লাখ লাখ মানুষ, তরুণ, কিশোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ছবিটা দেখবে। মাথায় সেট হবে অনেক কিছুই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত