আজ সোমবার, , ২০ নভেম্বর ২০১৭ ইং

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১২

১০ বছর পূর্বে নিহত ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে অপপ্রচার

জগন্নাথপুরে প্রায় দশ বছর পূর্বে নিহত এক ব্যক্তিকে নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে ভুল তথ্য পরিবেশন করে এ অপপ্রচার হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘময়না গ্রামের হাজী মুক্তার উদ্দিনের পুত্র মো. নুরুল হক।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে নুরুল হক বলেন, গত ৮ অক্টোবর স্থানীয় একটি দৈনিকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

আর অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছে তার দাদার ক্রয়কৃত ৫৬ শতক ভূমি দখলে নেয়া।  যা দীর্ঘদিন যাবত তিনি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উত্তরাধিকারী হিসেবে ভোগদখল করে আসছেন। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় নিহত রেজান উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা তাদের বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার করছেন বলে তিনি জানান।

নুরুল হক বলেন, প্রায় ১০ বছর পূর্বে ২০০৭ সালের ২২ জুলাই ‘জগন্নাথপুরে দুইদিন ধরে কৃষক নিখোঁজ’ এবং একই বছরের ২৩ জুলাই ‘জগন্নাথপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর কৃষকের গলিত লাশ উদ্ধার’ শিরোনামে পৃথক দুটো সংবাদ ওই দৈনিকে প্রকাশিত হয়। নিখোঁজের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে জগন্নাথপুর থানায় একটি জিডি করা হয়। যার নং ৮৮৭। কৃষক রেজান উদ্দিন শুক্রবার নিখোঁজ হন এবং রোববার সকাল ৭টায় ছিলাউড়া হলদিপুর ইউপির বাউধরণ হলিকোনা রাস্তার দক্ষিণ পাশে এলাকাবাসী রেজান উদ্দিনের লাশ দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের লোকেরা জগন্নাথপুর থানায় খবর দিলে তৎকালীন সময়ের এসআই সৈয়দ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেজান উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করেন। রেজান উদ্দিনের ছেলে সোহেল আহমদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশটি তার পরিবারের নিকট ময়না তদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। যার নং ৯১০। সেই সময়ে একই পত্রিকার সংবাদ থেকে জানা যায়, পুলিশের কাছে আবেদনে সোহেল আহমদ জানিয়েছিলেন তার পিতা পানিতে ডুবে মারা যান। রেজান উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকেও এলাকাবাসী এবং পুলিশের এসআই সৈয়দ বেলায়েত হোসেনকে জানানো হয়েছিল রেজান উদ্দিন পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

তিনি বলেন, রেজান উদ্দিনের মৃত্যুর ১০ বছর পর তার পরিবারের সদস্যরা প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে একই দৈনিকে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তারা উত্তরাধিকারী সূত্রে নিজস্ব ভূমিতে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন। এজন্য কারো বাড়িতে হামলার কোনো প্রশ্নই উঠেনি। বরং তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, দাদার ক্রয়কৃত ভূমি নিয়ে চলতি বছরের ২০ ও ২৪ আগস্ট দুটি সালিশ বৈঠকের রায়ও তার পক্ষে আছে। এছাড়া প্রকাশিত সংবাদে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে রেজান উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে যে বক্তব্য এসেছে তাও সঠিক নয়। যেখানে রেজান উদ্দিনের পুত্র সোহেল আহমদ সেই সময়ে সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন এবং থানায়ও লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন তার পিতা পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছেন, সেখানে ঘটনার ১০ বছর পর বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকল মহলের প্রতি আহবান জানান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত