আজ বৃহস্পতিবার, , ৩০ মার্চ ২০১৭ ইং

মারমুখি বিজিবি, রণক্ষেত্র শ্রীমঙ্গল

প্রকাশিত: ২০১৭-০১-০৫ ১৮:৫৯:১০

   আপডেট: ২০১৭-০১-০৬ ০১:৩০:৩৮

নিজস্ব প্রতিবেদক ও শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সাথে জনতার সংঘর্ষে বেশকয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে বলে জানা গেছে। আতঙ্কে উপজেলার সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

সংঘর্ষের সময় বিজিবি গুলি ছুঁড়ে বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানান তারা। সংঘর্ষের সময় শতাধিক দোকানপাট ও শতাধিক গাড়ি ভাংচুর করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিজিবি এই ভাংচুর চালিয়েছে।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে সুকুমার দাস, শাহ আলম ও পবিত্র পালকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়। পরে পবিত্র পালের অবস্থার অবণতি হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়। মোমিনুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন নামে দুই বিজিবি সদস্যও আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার পানসী রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে আসেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একজন কর্মকর্তা। এসময় কথাকাটাকাটির জের ধরে স্থানীয় এক পরিবহন শ্রমিক ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এতে ওই কর্মকর্তা আহত হন। এ খবর বিজিবি ৯ সেক্টরের সদরদপ্তরে পৌছালে বর্ডার গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষদের মারধর করেন। বিজিবি সদস্যরা নির্বিচারে দোকানপাট ও গাড়ি ভাংচুর করে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এসময় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিজিবি সদস্যদের পাল্টা হামলা করলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

সংঘর্ষের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষুব্দ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তারাও ক্ষোভের মুখে পড়ে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, এক পরিবহন শ্রমিকের সাথে বিজিবি কর্মকর্তার বাকবিতণ্ডার জের ধরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। আহত ৬জনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাত সাড়ে সাতটায় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনীতে প্রশাসনের উদ্যোগে বিক্ষোব্দ জনতাকে নিয়ে সভা করা হয়। এতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল আহমদ, পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল, শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর দেব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

এই সভায় জেলা প্রশাসক সংঘর্ষের ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপুরণ প্রদানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়ে আসে।

ঘটনাস্থল থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর দেব জানান, পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিজিবি তাদের ব্যারাকে ফিরে গেছে।

৪৬ বিজিবির অধিনায়ক মেজর মাহমুদ (ভারপ্রাপ্ত) জানান, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গল সেক্টরে আসার পথে শ্রীমঙ্গল লাইট স্টান্ডের এক ড্রাভারের সঙ্গে ‘রং ড্রাইভ’ করা নিয়ে বিজিবির এক সদস্যের কথা কাটাকাটি হয়।

 

“এরপর বিকাল ৫টার দিকে ওই ড্রাইভার শ্রীমঙ্গল চলে আসেন এবং লাইট স্টান্ডের কাছে এসে অবরোধ দিয়ে বিজিবির গাড়ি আটকে ওই গাড়িতে থাকা দুই সদস্যকে মারধর করে।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত