আজ বুধবার, , ১৮ অক্টোবর ২০১৭ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জুন, ২০১৭ ১৩:৩১

রমজানে খোলা রাখায় সিলেট আদালত পাড়ার ২ ক্যান্টিনে হামলা, আহত ৭

রমজান মাসে খোলা রাখার অভিযোগে সিলেটের কালেক্টরেট ক্যান্টিন ও জেলা আইনজীবী সমিতির ক্যান্টিনে হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। হামলার ক্যান্টিন কর্মচারীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা দুটি ক্যান্টিনই ভাংচুর করে। হামলাকারীদের মধ্যে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সকালে আদালত চত্বরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতদের মধ্যে আছেন, পাভেল, আব্দুল হালিম, জামাল, আল আমিন ও জুনেদ। এর মধ্যে গুরুতর আহত জুনেদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হোসেন আহমদ জানান, সকাল পৌনে ৯টার দিকে ৩ জন দুর্বৃত্ত আইনজীবী সমিতির ক্যান্টিনে ঢুকে রমজান মাসে ক্যান্টিন খোলা রাখার অনুমতি কে দিয়েছে তা জানতে চায়। এ নিয়ে কিছুক্ষণ ক্যান্টিনের কর্মচারীদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে লোহার রড নিয়ে আবার ক্যান্টিনে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা ক্যান্টিন ভাঙচুর ও ক্যান্টিনের কর্মচারী এবং উপস্থিত অন্যদের বেধড়ক পেটাতে থাকে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ সহ অন্যান্য আইনজীবীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আইনজীবীদের উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা রোজার দিনে ক্যন্টিন খোলা রাখায় আইনজীবীদেরও গালিগালাজ করে।

এরপর পাশ্ববর্তী কালেক্টরেট ক্যান্টিনে গিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে কালেক্টরেট ক্যান্টিনের দিকে চলে যায়। পরে কালেক্টরেটের অস্থায়ী ক্যান্টিনেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে ওই ক্যন্টিনের বাবুর্চিসহ ৩ জন আহত হন।

এসময় সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ আদালতের প্রসিকিউশন শাখার পুলিশ কর্মকর্তা নির্মল চক্রবর্তী ও কতোয়ালী থানায় ফোন করে ঘটনাটি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মো. আব্দুর রহিম ও দুলাল নামের ২ হামলাকারীকে আটক করে। এসময় অপর হামলাকারী পালিয়ে যায়।

হামলার খবর পেয়ে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো সহ অন্যান্য বিচারিক হাকিম ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ বলেন, আদালতের নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, প্রশাসনকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আদালতপাড়ার অমসুলিম ও রোজা রাখতে অক্ষম অসুস্থ মুসলিম সদস্যদের জন্য প্রতিবছরই রমজানে ক্যান্টিন খোলা থাকে। তবে রমজানের পবিত্রতা যাতে নষ্ট না হয় এ জন্য ক্যান্টিনের সামনের দরজা বন্ধ রাখা হয়। কখনোই এধরণের হামলার ঘটনা ঘটেনি।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল আলম ২ জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেটটুডেকে জানান, এ ঘটনায় হোটেল বাবুর্চি পাবেল আহমদ বাদি হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত