আজ শুক্রবার, , ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং

বড়লেখা প্রতিনিধি

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:৪৮

বড়লেখার ফকিরবাজার মাদ্রাসার সুপার নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

৩ প্রার্থীর আবেদন গায়েবের ঘটনা আদালতে প্রমাণিত

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ফকিরবাজার দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদের নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর মৌলভীবাজার সহকারি জজ আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ জারি করেছেন।

সুপার পদপ্রার্থী মাওলানা আব্দুল করিমের আবেদন গায়েবের ঘটনায় তিনি গত ২ আগস্ট আদালতে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের জন্য স্বত্ত্ব মামলা (নং-২৫৯/১৭) দায়ের করলে গত ২৮ আগস্ট বিজ্ঞ সহকারি জজ বেগম সেজুতি জান্নাত ঘটনার প্রমাণ পেয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা স্থগিতের নির্দেশ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি পছন্দের এক প্রার্থীকে সুপার পদে নিয়োগ দিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যায়। মিশন বাস্তাবায়নে ৩ সুপার প্রার্থীর আবেদনপত্র গায়েব করে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুপার আব্দুস সবুর অবসরে যাওয়ায় ফকিরবাজার দাখিল মাদ্রাসার সুপার পদ শূন্য হয়। এরপর ৪-৫ বার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পদটি পূরণ করা হয়নি। গত বছরের ১৮ নভেম্বর সুপার ও নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ বোর্ড সুপার পদে আব্দুল মোহিম ও নিম্নমান সহকারী পদে জাহেদ হোসেনকে নির্বাচিত করে। অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের প্রার্থীকে সুপার পদে নিয়োগ দিতে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি এ নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করেন। পরবর্তীতে পুনরায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

এর প্রেক্ষিতে সুপার পদে আব্দুল খালিক, ওয়াছিক উদ্দিন, আব্দুল করিম ও রফিক উদ্দিন ব্যাংক ড্রাফটসহ আবেদন করেন। কিন্তু বাছাইয়ের আগেই তাদের মধ্যে ৩ জনের আবেদন গায়েব ও ১ জনের অনাপত্তিপত্র ফেলে দিয়ে আবেদন বাতিল করা হয়।

সুপার প্রার্থী মাওলানা আব্দুল করিম মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানতে পারেন ৬ আগস্ট নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অথচ তাকে ডাকা হয়নি। তাকে নিয়োগের এডমিট কার্ড না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে জানানো হয় বাছাইয়ে তার আবেদন পাওয়া যায়নি। অথচ তিনি ডাকযোগে আবেদন পাঠিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংগ্রহ করেন। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার আবেদন গায়েব করা হয়। পরে জানতে পারেন তারমতো আরো দুইজনের আবেদন গায়েব করা হয়েছে। এজন্য তিনি গত ২ আগস্ট আদালতের শরনাপন্ন হন। বিজ্ঞ আদালত ঘটনার প্রমাণ পেয়ে উক্ত নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাঃ শাখাওয়াৎ হোসেন মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার স্যার হজে¦ গেছেন। নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য আদালতের নির্দেশের কপি এসেছে। স্যার এসে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত