আজ শুক্রবার, , ২০ অক্টোবর ২০১৭ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:৩২

দক্ষিণ সুরমায় ‘পুলিশের সহযোগীতায়’ ছিনতাইয়ের চেষ্টা : আটক ৩, ২ পুলিশ ক্লোজ

দক্ষিণ সুরমায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে জনতার সহযোগীতায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত ছিনতাইকারীদের সাথে পুলিশ সদস্যদেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে দক্ষিণ সুরমা থানার দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত (ক্লোজ) করা হয়েছে।

জানা যায়, গত সোমবার (৯ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক শিল্পপতি হুমায়ূন আহমদ। এসময় ছিনতাইকারীদের মধ্যে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় স্থানীয় জনতা।

আটকের পর ছিনতাইকারীদের একজন আবু মিয়ার (২৫) মোবাইল ফোনের কল লিস্ট চেক করে এক পুলিশ সদস্যের সাথে কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

হুমায়ূন জানান- মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা তাকে ‘ডাকাত’ বলে তাড়িয়ে নিয়ে আসে। পরে তিনি তাঁর নিজের মালিকানাধীন দিবা-রাত্রি ফিলিং স্টেশনের ঢুকে পড়েন। মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা ফিলিং স্টেশনে ঢুকে হুমায়ূনকে ‘ডাকাত’ বলে চিহ্নিত করতে চায়। এসময় তিনি এক ছিনতাইকারীকে ঝাপটে ধরেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আরোও ২ ছিনতাইকারীকে আটক করে।

এ সময় খুলনা মেট্রোর নাম্বার প্লেইট লাগানো একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। তাদের সহযোগী অন্যরা পালিয়ে যায়।

আটককৃতরা হচ্ছেন দক্ষিণ সুরমা থানাধীন বলদী গ্রামের আবু মিয়া (২৫), আব্দুল হক (২৩) ও সানজিদ (২০)। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেল (খুলনা মেট্রো ল -১১-২১৫৩) থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

এদিকে এক পুলিশ সদস্য ওই ছিনতাইকারীদের সহযোগীতা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন হুমায়ূন।

এ অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ। ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ব্যবসায়ী হুমায়ুন আহমদ বলেন- ‘সোমবার রাতে ১ টার দিকে তেলিবাজার হাজী মনজু মিয়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। হাইওয়ে রোডে উঠার পর আমার গাড়ির পিছু নেয় ২টি মোটরসাইকেল। আমি দ্রুত চণ্ডিপুল আসলে রাস্তার অপর দিক থেকে ২ জন যুবক ডাকাত বলে চিৎকার করে আমার গাড়ির দিকে আসতে থাকে। এরপর আমি দ্রুত পাম্পে প্রবেশ করলে পেছনে ধাওয়া করা মোটরসেইকেল দিয়েও কয়েকজন ছিনতাইকারী পাম্পে এসে আমার সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু করে।’

তিনি আরও জানান- ‘ছিনতাইকারীদের সহযোগী হিসেবে এক পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আটক তিন জনের একজন আবু মিয়া এক পুলিশ সদস্যের সাথে রাত ১১টার পর থেকে অনেকবার কথা বলেছে। যা আটকের পর আবুর মোবাইল ফোনের কললিস্ট চেক করে ধরা পড়ে। এমনকি আবুর মোবাইল থেকে ওই সময় এক কনস্টেবলের ফোনে কল করেও সত্যতা পাওয়া যায়। পরে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলসহ ৩ ছিনতাইকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।’

সিলেট সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন- ‘পুলিশের সহযোগীতায় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা টাকা নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি আটক ছিনতাইকারী আবুর সাথে এক পুলিশ কনস্টেবলের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। যা আটকের পর সত্যতা পাওয়া যায়। যদি পুলিশের বিরদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে আমরা আন্দোলনে নামবো।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মূসা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- ‘ব্যবসায়ীদের মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু তারা কোন মামলা করেননি। তবে তাদের দেয়া মৌখিক অভিযোগটি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোন পুলিশ সদস্য এই ঘটনায় জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে আটককৃতদেরও চালান দেয়া হয়েছে।’ 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত