আজ বুধবার, , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং

শাহ শরীফ উদ্দিন

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:৫৬

ফিরে এলো হরতাল : সমর্থন নেই বিএনপির, আ. লীগ বলছে অবৈধ

ফাইল ছবি

জ্বালাও-পুড়াও আর হরতালের ধংসাত্মক রাজনীতি থেকে অনেক দিন দূরে ছিলো বাংলাদেশ। স্বস্থিতে ছিলেন নাগরিকেরা। তবে দীর্ঘদিন পর আবার ফিরে এসেছে হরতাল।

নিজেদের নেতাদের মুক্তির দাবিতে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত ইসলামী। যদিও নিবন্ধনহীন রাজনৈতিক দলের হরতাল আহ্বানকে অবৈধ বলছেন-সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতারা। আর বিএনপি নেতারা বলছেন- এই হরতালে তাদের সমর্থন নেই।

জনগন এ হরতাল মানবে না বলে মনে করেন নাগরিক ও পেশাজীবী সমাজের নেতারা।

গত সোমবার রাতে জামায়েতের আমির মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া  গোলাম সরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমানসহ ৮ নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত। এরফলে দীর্ঘবিরতি শেষে আবার হরতালের কবলে পড়ছে দেশ।

তবে দলীয় স্বার্থে ডাকা এই হরতালকে জনগন প্রত্যাখ্যান করবে বলে মনে করেন সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। তাদের মতে, হরতাল একটি দেশের উন্নতির অন্তরায়। তবে বিশেষ কারণে দেশের স্বার্থে কোন রাজনৈতিক সংগঠন হরতাল ডাকতে পারে। কিন্তু শুধু দলীয় স্বার্থে হরতালের ডাক দেওয়া কোন ভাবেই কাম্য নয়।

আর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, হরতালে যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে পুলিশ। সিলেটের সকল মোড়ে বাড়তি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে।

জামায়াতের হরতালকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, যাদের কোন নিবন্ধন নেই তারা কোনভাবেই হরতাল আহ্বানের অধিকার রাখে না। তাছাড়া যে সকল নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবিতে তারা হরতাল ঘোষণা করেছে সেকল নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় প্রশাসন তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। সুতরাং এরকম একটি বিষয়ে হরতাল ঘোষণার কোন যৌক্তিকতা নেই। সিলেটের মানুষ জামাতের এই হরতালকে প্রত্যাখ্যান করবে।

সিলেট জেলা বিএনপি এর সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, কোন দাবি আদায়ের জন্য যে কোন রাজনৈতিক সংগঠন হরতাল ঘোষণা করার অধিকার রাখে। তিনি বলেণ, জামায়াত ইসলামী যদিও বিশ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত সংগঠন তবু তাদের আজকের হরতালে বিএনপির কোন সম্পৃক্ততা নেই। সুতরাং এই হরতাল জনগন মানবে কি মানবে না তা জনগনই বিবেচনা করবে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় পার্টি শান্তিতে বিশ্বাস করে। হরতাল, ভাংচুর এসব বিষয়কে জাতীয় পার্টি সমর্থন করে না। তাছাড়া হরতাল একটি দেশের উন্নয়নের অন্তরায়। তাই জামাতের এই হরতালকে আমি সুন্দর ভাবে বিবেচনা করছি না।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ রেনু বলেন, কোন দল, ব্যক্তি বা গোষ্টির স্বার্থে জনগনের জানমাল জিম্মি কারা উচিত নয়।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু বলেন, সিলেটের নাট্যকর্মীরা সব সময় জামাতে ইসলামির সকল কার্যক্রমে বিরোধীতা করেছে। এখনও তাই করবে। যদিও সাংগঠনিক ভাবে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তবে সিলেটর সকল নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মী অতীতের মতো এই হরতালকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যাখ্যান করবে।

সিলেট জেলা আইনজিবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ বলেন, যেহেতু এই হরতালের ব্যাপারে তেমন প্রচারণা হয়নি তাই খুব বেশি একটি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখছি না। তাছাড়া কোর্টের সকল কার্যক্রমও যথারীতি চলবে।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের সভাপতি ফলিক আহমদ সেলিম বলেন, হরতাল হলো চুড়ান্ত কর্মসূচী। হরতাল আহ্বানের আগে অন্যান্য কর্মসূচী দিয়ে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা উচিত। এতে কাজ না হলে হরতাল আহ্বান করা যেতে পারে। কিন্তু জামাতে ইসলামি তা না করে হঠাৎ করে হরতাল ঘোষণা করেছে। যার কোন যৌক্তিকতা নেই। তাই আমাদের পরিবহন শ্রমিকরা এই হরতাল প্রত্যাখ্যান করে গাড়ি চালাবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গনমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, হরতালে নাশকতা ঠেকাতে সিলেটের মহানগর পলিশ তৎপর রয়েছে। সিলেটের সকল মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত