আজ বৃহস্পতিবার, , ২৩ নভেম্বর ২০১৭ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:২৬

‘নিহত মিয়াদই আগে হামলা চালিয়েছেন’

সিলেটের টিলাগড়ে ছাত্রলীগ নেতা ওমর আহমদ মিয়াদ 'ব্যক্তিগত বিরোধে' খুন হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. রায়হান চৌধুরী।

সোমবার বিকেলে নগরীর টিলাগড়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ওমর আহমদ মিয়াদ (২২) নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। এতে আহত হয়েছেন আরও দুই কর্মী।

এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একটি ঘটনা নিয়ে তিনদিন আগে এমসি কলেজে তোফায়েল আহমদ নামে আরেক ছাত্রলীগ নেতার সাথে ওমর আহমদ মিয়াদের ঝামেলা হয়।

রায়হান বলেন, এরপর আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ ও রনজিত সরকার বসে দুইজনকে এমসি কলেজে যেতে নিষেধ করেন। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার বিকেলে মিয়াদ কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে টিলাগড় এলাকায় তোফায়েলের উপর হামলা চালায়। তোফায়েলকে সে প্রথমে দা দিয়ে কোপ মারে। এরপর তোফায়েলও মিয়াদের উপর পাল্টা ছুরিকাঘাত করে।

আহত অবস্থায় তোফায়েল ও মিয়াদ দু'জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মিয়াদের মৃত্যু সংবাদ জানার পর তোফায়েল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মিয়াদ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু গ্রুপের কর্মী। তার উপর হামলাকারীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী গ্রুপের কর্মী।

এ ব্যাপারে রায়হান চৌধুরী বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছাত্রলীগের সকল কর্মীই আমার কর্মী। দলের কর্মী। আমার নিজের কোনো অনুসারী বা গ্রুপ নেই।

তবে ওসমানী হাসপাতালে মিয়াদের লাশের পাশে উপস্থিত মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মওদুদ আহমদ আকাশ বলেন, ওমর আহমদ মিয়াদ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তার পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। সোমবার দুপুরে তাকে কারা ছুরিকাঘাত করেছে খবর পেয়ে আমরা ছুটে আসি। তবে ঘটনাস্থলে এসে আমরা হামলাকারীদের পাইনি।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টিলাগড়ে সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের অফিসে সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন আহত নাসির ও তারিক নামে আরও দুই ছাত্রলীগ কর্মী।

এরআগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রলীগের কর্মী জাকারিয়া মোহাম্মদ মাসুম। এনিয়ে গত ৭ বছরে সিলেটে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধে খুন হলেন ৮ জন। এরমধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাই ঘটেছে টিলাগড় এলাকায়।

নিহত ওমর আহমদ মিয়াদ সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রি গ্রামের আকুল মিয়ার ছেলে।
 
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফখরুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ফখরুল সিলেট সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স শাখায় কর্মরত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত