আজ শুক্রবার, , ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ইং

রিপন দে, মৌলভীবাজার

১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০২:১২

শিক্ষার্থীদের সঠিক উচ্চারণ শিক্ষা দিতে শিক্ষিকার উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের সঠিক উচ্চারণ শেখাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন পূর্না রায় ভৌমিক নামে মৌলভীবাজারের এক স্কুল শিক্ষিকা। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পুরো বই রেকর্ডিং করে শিক্ষার্থীদের সঠিক উচ্চারণ শিখতে সহায়তা করছেন।

তাঁর এই উদ্যোগ পুরো জেলায় বেশ সাড়া ফেলছে। কেবল শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষক-অভিভাবকরাও এতে উপকৃত হবেন বলে মনে করেন পূর্ণা।

তিনি জানান, প্রাথমিক স্কুলে ছোট শিশু থেকে শুদ্ধ বাংলা সঠিক উচ্চারণ শিক্ষা দিতে না পারলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই ভাষার ভুল উচ্চারনের চর্চা থেকে যাবে। এমন চিন্তা থেকে প্রযুক্তির ব্যবহার করে ছাত্রদের বাংলা শুদ্ধ উচ্চারণ শেখানোর এই পদ্ধতি বের করেছেন পূর্না রায় ভৌমিক।  তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার টিলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ।

পূর্না রায় জানান, ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা বইয়ের শুদ্ধ উচ্চারণের অডিও রেকর্ড করেছেন ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের জন্য। ইতিমধ্যে কয়েকটি স্কুলে এই পদ্ধতি চালু করেছেন তিনি। তার এই উদ্যোগ এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

তাঁর পদ্ধতি অনুসারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর অ,আ, ক, খ  থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণীর প্রত্যেক পাঠের অডিও রেকর্ডের সাথে বই মিলিয়ে পাঠগ্রহণ করবে শিক্ষার্থীরা। প্রত্যেক শ্রেণীর সকল পাঠের আলাদা অডিও রয়েছে তার কাছে। প্রতিদিনের পাঠ অনুযায়ী একটি মোবাইল ফোনে,  ল্যাপটপে  বা যেখোন যন্ত্রে রেকর্ডকৃত অডিও চালিয়ে দিলেই বই দেখে ও উচ্চারণ শুনে তা নিজে নিজে শিখবে শিক্ষার্থীরা। উচ্চারণে পিছিয়ে থাকা শিক্ষকরাও শিখতে পারবেন শুদ্ধ বাংলা। এমনকি সচেত অভিভাবকরাও বুঝতে পারবেন তার সন্তান সঠিক উচ্চারন করছে কিনা।

এ ব্যপারে পূর্ণা রায় ভৌমিক  বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছর শিক্ষকতা করে দেখেছি শিক্ষার্থীরা শুধু নয়, বেশিরভাগ শিক্ষকরাই ভুল উচ্চারণ করেন। দেশের প্রায় সব অঞ্চলের পাশাপাশি সিলেটের মানুষ শুদ্ধ উচ্চারণের জড়তায় ভোগেন। প্রাথমিক থেকে যদি শুদ্ধ বাংলা শিখানো যায় তাদের মধ্যে ভাষাগত জড়তা থাকবে না। এই চিন্তা থেকেই আমার এই উদ্ভাবন। আমার এই পদ্ধতি সহযেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ বাংলা ও তার উচ্চারণ শিখতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিক্ষকরাও শিখাতে গিয়ে নিজেরাই শুদ্ধ বাংলার উচ্চারণ শিখতে পারবেন।

এ ব্যাপারে জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিশোলয় চক্রবর্তী জানান,  সরকার যে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে তাতে এই ডিজিটাল  বাংলা পাঠদান পদ্ধতি সরকারের উদ্যোগকে এগিয়ে নিবে। আমরা প্রাথমিক অবস্থায় এই উদ্ভাবন কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য কিছু অনুদান দিয়েছি। আমি চাই এই উদ্ভাবন সারা দেশে প্রচার হউক। আমরা সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে এটা পৌঁছাব।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত