আজ বৃহস্পতিবার, , ৩০ মার্চ ২০১৭ ইং

সৌদি বাদশার মৃত্যুতে জাতীয় শোক হয়, কাস্ত্রোর ক্ষেত্রে হয় না!

প্রকাশিত: ২০১৬-১২-০৫ ২২:২১:৪৮

   আপডেট: ২০১৬-১২-০৫ ২২:৫১:৫০

আরিফ রহমান

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সৌদি আরব ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার সরাসরি বিরুদ্ধে। এমনকি স্বাধীনতার পরেও এই বিরুদ্ধতা ছিল প্রশ্নাতীত। আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু যখন সৌদি বাদশার কাছে বাংলাদেশের স্বীকৃতি এবং বাঙালি মুসলমানদের হজ্জ করতে যেতে দেয়ার অনুমতি প্রত্যাশা করেন তখন সৌদি বাদশা বুঝিয়ে দেয় পাকিস্তান আর সৌদি আরব একই মা'য়ের দুই ভাই।

এমনকি ১৯৭৪-এর ২২ ফেব্রুয়ারি যখন পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় তখনো সৌদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়নি। তারা স্বীকৃতি দেয় ১৫-ই আগস্টের পরবর্তী সকালে। মুজিব মরেছে এই খবরটা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়। মুজিব কিংবা মুজিবের আদর্শ সমেত বাংলা'কে সৌদি কখনো মেনে নেয়নি।

এরপর জল অনেকদূর গড়ায়। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের যখন মৃত্যু হয় তখন দেশব্যাপী শোক পালন করেছিলো বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে সারাদেশে সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

কিউবা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে কিউবার প্রেসিডেন্ট কাস্ত্রো মুজিবকে বলেন সারা পৃথিবীর শোষিত মানুষের নেতা, কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট করেন, জয় বাংলা বলে চিৎকার করে ওঠেন, অশ্রুসিক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেন। সেখানে বৈঠকের পর বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কাস্ত্রো বলেছিলেন, 'আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু মুজিবকে দেখেছি'।

স্বাধীন বাংলা থেকে প্রথম দিকেই কিউবার সাথে বাণিজ্য হতে থাকে, বাংলাদেশের বিভিন্ন সংকটে কিউবাকে কিংবা ক্যাস্ট্রোকে বুক চিতিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যায় সবার আগে।

২০১৬ সালে ২৫ নভেম্বর বাংলার অকৃত্রিম বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রো মারা যান। ফিদেলের মৃত্যুতে এই দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয় নাই, আমাদের পতাকা রাখা হয় নাই অর্ধনমিত করে।

অথচ মুজিবের মৃত্যুর পর ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন- "শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে,আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে।"

কাস্ত্রোকে একনায়ক, স্বৈরাচারী ইত্যাদি তকমায় রাঙিয়ে অনেক ফেস-লীগ্যারেরা আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন। অথচ যেই নেতার আদর্শের ওপর তাদের দলের দাঁড়িয়ে থাকা সেই নেতাকে মৃত্যুর ঠিক পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে কার্যত সেই নেতার মৃতদেহকে সবচাইতে অপমান করেছিলো যেই রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্রের জন্য তাদের দরদ কমে না।

  • আরিফ রহমান : অনলাইন এক্টিভিস্ট।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত