আজ মঙ্গলবার, , ১৭ জানুয়ারী ২০১৭ ইং

কোন আইনে শ্রাবণ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করলো বাংলা একাডেমি?

প্রকাশিত: ২০১৬-১২-২৭ ০১:৫৭:৪৯

   আপডেট: ২০১৬-১২-২৭ ০২:০০:৪৭

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক

শ্রাবণ প্রকাশনীকে দুই বছরের জন্য একুশে বইমেলায় নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে বাংলা একাডেমির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কোন আইনে শ্রাবণ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করলো বাংলা একাডেমি- এই প্রশ্ন তুলেছেন লেখক মারূফ রসুল

ফেসবুকে তিনি লিখেন-


‘শ্রাবণ’ প্রকাশনীকে একুশের বইমেলায় নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে অথর্ব ‘বাংলা একাডেমি’ যে যুক্তি উপস্থাপন করেছে, তা হাস্যকর। তারা এতোদিন পর ‘বইমেলার স্বার্থ’ আবিষ্কার করেছে! এখন প্রশ্ন হচ্ছে বইমেলার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো নথিপত্র আছে কি?

অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে যখন মেলা প্রাঙ্গণে কুপিয়ে আহত করেছিলো ধর্মান্ধ অপগোষ্ঠী, লেখক অভিজিৎ রায়কে যখন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো তখন বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল চোষা ‘বাংলা একাডেমি’র বইমেলার স্বার্থের কথা মনে হয়নি।

কোন আইনে ‘শ্রাবণ’ প্রকাশনীকে নিষিদ্ধ করলো ‘বাংলা একাডেমি’? ‘বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩’ তে একাডেমির যে বাইশটি কার্যাবলি লিপিবদ্ধ আছে, তাতে বইমেলার ‘স্বার্থ বিবেচনা’ সংশ্লিষ্ট কোনো বক্তব্যই নেই। এমনকি একাডেমির কার্যাবলির মধ্যে ১৩ নম্বরে সেমিনার ও বইমেলা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেটা বিদেশে।

অমর একুশে বইমেলার জন্যে ‘বাংলা একাডেমি’ যে এতো নাচন কুদন করে, সেটা তাকে মানায় না; কারণ আইনের কোথাও তাকে এই নাচন কুদনের এখতিয়ার দেয়া হয়নি। তা হলে প্রশ্ন হচ্ছে এই বইমেলাটি কার?

এটি সম্পূর্ণ প্রকাশকদের বইমেলা। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকাশনীর বা প্রকাশনা সমিতির উদ্যোগে যে বইমেলাগুলো হয়, তার ব্যবস্থাপনা অমর একুশে বইমেলার চেয়ে অনেক ভালো। তাছাড়া শ্রদ্ধেয় চিত্তরঞ্জন সাহার উদ্যোগে যখন প্রথম বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তখন ‘বাংলা একাডেমি’র ভূমিকা ছিলো কেবল স্থান বরাদ্দ দেয়া। আর এই প্রাঙ্গণ তো ‘বাংলা একাডেমি’র পৈতৃক সম্পত্তি না। তারপরও প্রকাশকরা গত দু বছর ধরেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা করছেন। তাহলে বইমেলা নিয়ে ‘বাংলা একাডেমি’র এতো আগ্রহ কেনো? কারণ এই মেলায় কোটি কোটি টাকার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট হয়। মহা-পরিচালকের রুমে বসে রঙ চা খেতে খেতে কলমের খোঁচায় তরুণ প্রকাশকদের ক্ষমতা দেখানো যায়।

চিত্তরঞ্জন সাহা প্রকাশক ছিলেন। তিনি ‘বাংলা একাডেমি’র কোনো কর্তাব্যক্তি ছিলেন না। তাঁর উদ্যোগেই বইমেলা শুরু হয়েছিলো। বাংলাদেশের প্রকাশকরা সারা বছর দেশব্যাপি অনেক বইমেলা করেন। সেগুলো যদি সফলভাবে করা যায়, তাহলে একুশের বইমেলা কেনো করা যাবে না?

আজ ‘বাংলা একাডেমি’ প্রকাশকদের চোখ রাঙায়, নিষিদ্ধ করে কোন সাহসে? ফেব্রুয়ারি মাস না এলে তো এই একাডেমি তাদের সদর দরোজার বাত্তিও ঠিক করে না। যে প্রকাশকদের জন্য এক মাস মেলা করে এগারো মাস কলার ঝাঁকায়, তাদের নিষিদ্ধ করে; মেলা প্রাঙ্গণে লেখকের ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ পড়ে থাকে আর ‘বাংলা একাডেমি’ চোখে ঠুলি পড়ে বোসে থাকে। বইমেলার দায়িত্ব প্রকাশকদের নেয়া উচিৎ। প্রকাশকদের উদ্যোগেই হওয়া উচিৎ অমর একুশে গ্রন্থমেলা। অতো সাজগোজের দরকার নেই, প্রতিদিন আবর্জনার মতো প্রবন্ধ পাঠেরও দরকার নেই। মেলা হোক। বই থাকুক। লেখক-প্রকাশক-পাঠক থাকুক। এক বছর মেলা করতে না পারলে, ‘বাংলা একাডেমি’র বর্তমান যে মৌলবাদ তোষণ নীতি, তাতে ঘুঘুও চড়বে না; মানুষ তো অনেক পরের কথা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত