23 ফেব্রুয়ারি 2026

পন্টিংয়ের প্রত্যাশার পারদ এবং প্রোটিয়াদের কাছে ভারতের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের রানমেশিন হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের বাজি ছিলেন তরুণ আগ্রাসী ওপেনার অভিষেক শর্মা। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে থাকা এই ব্যাটারের ধারেকাছে আপাতত কেউ নেই। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত যখন চ্যাম্পিয়ন হয়, তখন জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের পথচলাই শুরু হয়নি। বিশ্বকাপের ঠিক পরপরই জিম্বাবুয়ে সফর দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয় তার। ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরলেও, ঠিক পরের ম্যাচেই মাত্র ৪৬ বলে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। এরপর থেকে প্রতিপক্ষ বোলারদের রীতিমতো শাসন করে চলেছেন। খুব বেশি অভিজ্ঞ না হলেও মাত্র ৩৮টি ম্যাচ খেলেই ২ সেঞ্চুরি ও ৮টি হাফ সেঞ্চুরিসহ ১২৯৭ রান করে ফেলেছেন তিনি। তার ব্যাটিং গড় ৩৭.০৫, আর স্ট্রাইক রেট ১৯৪.৭৪। মাস চারেক আগে এশিয়া কাপেও ভারতের শিরোপা জয়ে সর্বোচ্চ রান করে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন। পন্টিংয়ের ধারণা ছিল, অভিজ্ঞতার এই ঘাটতিটাই হয়তো অভিষেকের জন্য ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে এবং তিনিই হতে পারেন এবারের টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়। তাকে দলের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল যে, সে ফর্মে না থাকলে ভারতীয় দলকে অন্য যেকোনো সাধারণ দলের মতোই নড়বড়ে দেখাবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন পন্টিং।

আত্মবিশ্বাসের আধিক্য এবং গাভাস্কারের কড়া সমালোচনা

পন্টিংয়ের এমন আকাশছোঁয়া প্রত্যাশার মাঝেই যেন বড়সড় একটা ধাক্কা খেল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ১২ ম্যাচের টানা জয়রথ থমকে গেছে। এই হারের পর ভারতীয় ব্যাটারদের মানসিকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার। প্রোটিয়াদের ১৮৭ রানের জবাবে ভারত মাত্র ১৮.৫ ওভারে ১১১ রানেই গুটিয়ে যায়। গাভাস্কার মনে করেন, মাঠে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামা এবং প্রতিটা বলেই অকারণে ব্যাট চালানোর প্রবণতাই দলটির কাল হয়েছে। জিওস্টারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার এবং ডিওয়াল্ড ব্রেভিসের ম্যাচ জেতানো ৯৭ রানের পার্টনারশিপ থেকে ভারতীয়দের অনেক কিছুই শেখার ছিল। প্রোটিয়া ব্যাটাররা শুরুর ধাক্কা সামলে যেভাবে পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস গড়েছেন, ভারতের ব্যাটাররা ঠিক সেখানেই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা যে এই ম্যাচে ভারতকে ছক কষে পুরোপুরি বোকা বানিয়েছে এবং তাদের জয়টা যে শতভাগ প্রাপ্য ছিল, সেটিও অকপটে স্বীকার করেন তিনি।

অহংকার দূরে সরিয়ে পরিস্থিতি বোঝার তাগিদ

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লের ভেতরেই মাত্র ২৬ রানে ৩ উইকেট হারায় ভারত। ইশান কিষান (০), অভিষেক শর্মা (১৫) এবং তিলক ভার্মার (১) মতো টপ অর্ডার ব্যাটাররা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। গাভাস্কারের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই প্রতি বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর অন্ধ চেষ্টা নয়। বিশেষ করে উইকেট যখন কিছুটা চ্যালেঞ্জিং থাকে, তখন নিজেদের অহংকার সরিয়ে রেখে পিচের আচরণ বুঝতে হয় এবং সে অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হয়। তিলক ভার্মাকে এমনিতে বেশ চতুর ব্যাটার মানলেও এই ম্যাচে তার অ্যাপ্রোচ নিয়ে গাভাস্কার বেশ হতাশ। প্রথম ওভারেই ইশানের বিদায় এবং অন্যদিকে অভিষেকের টানা রান না পাওয়ার কারণে তিলকের কাঁধেই মূল দায়িত্ব ছিল ক্রিজে টিকে থাকার। ওভারপ্রতি রানের চাহিদা তখন ১৫ ছিল না, বরং ৯.৫ এর আশেপাশেই ছিল। তাই শুরুতে কিছুটা সময় নিয়ে পার্টনারশিপ গড়ে প্রথম ছয় ওভার পার করে দেওয়াই হতে পারত সবচেয়ে আদর্শ কৌশল। কিন্তু অতিরিক্ত আগ্রাসী হতে গিয়ে পুরো টপ অর্ডারই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।