31 মার্চ 2026

ভারতীয় ক্রিকেটের দুই কালখণ্ড: যুব বিশ্বকাপে বৈভবের নাটকীয় বিদায় ও ইডেনে সৌরভের রৌপ্য জয়ন্তী

যুব বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইটা বেশ জমে উঠেছে। সুপার সিক্সের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটার বৈভবের ৩০ রানের ইনিংসটির সমাপ্তি ছিল রীতিমতো নাটকীয়। অষ্টম ওভারের শেষ বলে পাক বাঁহাতি পেসার মহম্মদ সায়ামের বলে স্কোয়্যার দিয়ে পুল করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বলের লাইন মিস করায় তা ব্যাটের কানায় লেগে সোজা চলে যায় উইকেটরক্ষক হামজা জাহুরের হাতে। আর তাতেই সমাপ্তি ঘটে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো বৈভবের ইনিংসের। মজার ব্যাপার হলো, আউট হওয়ার ঠিক আগের বলেই দু-দু’বার জীবন পেয়েছিলেন তিনি। সায়ামের অফস্টাম্পের বাইরের শর্ট বল হুক করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে বসেন বৈভব, যার ফলে বল ব্যাটের উপরের দিকে লেগে স্কোয়্যার লেগে হাওয়ায় ভাসে। ফিল্ডার হুজাইফা আহসান সেই সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। এরপর বল কুড়িয়ে তিনি যখন স্টাম্পের দিকে ছুড়লেন, বৈভব তখন ক্রিজের মাঝপথে। থ্রো ঠিকঠাক হওয়া সত্ত্বেও অন্য এক পাক ফিল্ডার বল ধরতে না পারায় নিশ্চিত রান আউট থেকেও সে যাত্রায় বেঁচে যান এই ভারতীয় ব্যাটার। এত বড় জোড়া সুযোগ পেয়েও শেষরক্ষা হয়নি তার। পরের বলেই তাকে সাজঘরে ফিরতে হয়। তবে এই ম্যাচটি ভারত জিতলে তারা সরাসরি সেমিফাইনালে পা রাখবে। দুর্ভাগ্যবশত হারলেও তাদের আশা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না। নেট রানরেটের সমীকরণে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের চেয়ে তারা অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

ইডেনের সেই ঐতিহাসিক জয়ের ২৫ বছর

বর্তমান প্রজন্মের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের মাঝেই ভারতীয় ক্রিকেট মেতে উঠতে চলেছে এক সোনালি অতীতের স্মৃতিচারণায়। ২০০১ সালে ইডেন গার্ডেন্সে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের সেই ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পঁচিশ বছর পূর্ণ হলো। এই রৌপ্য জয়ন্তী উপলক্ষে দলের পুরনো সতীর্থদের নিয়ে এক জমকালো পুনর্মিলনীর আয়োজন করতে চলেছেন তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। স্পোর্টসস্টারের প্রকাশিত বই ‘মিরাকল অ্যাট ইডেন’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসে সৌরভ জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকেই অনুষ্ঠানটি করার কথা ছিল। শচীন টেন্ডুলকারের ছেলের বিয়ের কারণে তা সাময়িকভাবে কিছুটা পিছিয়ে দিতে হয়েছে। স্টিভ ওয়াহর সেই অজেয় অস্ট্রেলিয়া দলকে ফলো-অনে পড়েও ভিভিএস লক্ষ্মণের ২৮১ এবং রাহুল দ্রাবিড়ের ১৮০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ভর করে ১৭১ রানে হারিয়েছিল ভারত। মুম্বাইয়ে সিরিজের প্রথম টেস্ট হারার পর অভাবনীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে চেন্নাইয়ে তৃতীয় টেস্ট জিতে সিরিজও নিজেদের পকেটে পুরেছিল সৌরভের দল।

অধিনায়ক সৌরভের দূরদর্শিতা ও হরভজন-ম্যাজিক

অজিদের বিরুদ্ধে সেই জয়কে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবেই দেখেন মহারাজ। তার মতে, স্টিভ ওয়াহর দলটি ছিল তার দেখা সেরা এবং প্রায় অজেয় একটি দল। সেই সিরিজে অধিনায়কত্ব টিকিয়ে রাখার এক বিশাল চাপ ছিল সৌরভের ওপর। তা সত্ত্বেও নির্বাচকদের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি হরভজন সিংকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। অধিনায়কের সেই আস্থার চরম মর্যাদা দিয়ে তিন টেস্টের সিরিজে ৩২ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ভাজ্জি। পুরনো দিনের স্মৃতি হাতড়ে সৌরভ বলেন, জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে হরভজনের বোলিংয়ে দারুণ বাউন্স এবং টার্ন দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। কাঁধের অস্ত্রোপচারের কারণে দলের প্রধান স্পিনার অনিল কুম্বলে তখন মাঠের বাইরে। ফলে দলে একজন কার্যকর স্পিনারের খুব দরকার ছিল। মুম্বাই টেস্টের বিপর্যয়ের পর নির্বাচকরা হরভজনকে বাদ দিতে চাইলেও, নিজের দূরদর্শিতায় তার ভেতরে থাকা ম্যাচ জেতানোর এক্স-ফ্যাক্টর ঠিকই চিনে নিয়েছিলেন তৎকালীন ভারত অধিনায়ক।