8 জানুয়ারি 2026

গল্প ছাড়াই নায়িকার ডাক ও দেশি-বিদেশি সিনেমার রেকর্ড গড়ার ধুম

ঢালিউড অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চিত্রনাট্য বা গল্প তৈরি হওয়ার আগেই নির্মাতারা তাকে কাস্ট করতে চাইছেন। অভিনেত্রীর মতে, বর্তমানে ভালো মানের সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা কম হলেও তার কাছে একের পর এক প্রস্তাব আসছে। এমনকি সিনেমার পরিকল্পনা বা গল্পের প্রাথমিক কাঠামো দাঁড় করানোর আগেই অনেকে তাকে কনফার্ম করার জন্য যোগাযোগ করছেন। স্ক্রিপ্ট প্রস্তুত হওয়ার আগেই নির্মাতাদের এমন আগ্রহ দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মিম। তার ক্যারিয়ারের অষ্টাদশ সিনেমা ‘পরাণ’ মুক্তির মাস পেরিয়ে গেলেও দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি, বরং অধিকাংশ শো এখনো হাউজফুল যাচ্ছে।

প্রবাসে বাংলা সিনেমার জোয়ার

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও বাংলা সিনেমার জয়রথ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ১৩টি মাল্টিপ্লেক্সে ৩২টি শো নিয়ে ‘পরাণ’-এর প্রদর্শনী শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ২৩টি শোয়ের অগ্রিম টিকেট মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রবাসী দর্শকরা সিনেমাটি দেখার অপেক্ষায় আছেন। মিমের ভাষ্যমতে, ‘মনপুরা’র পর বাংলা সিনেমা দেখার জন্য দর্শকদের এমন ঢল আর দেখা যায়নি। প্রেক্ষাগৃহের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে সিনেমাটি যেন আজই মুক্তি পেল। টিকেটের জন্য হাহাকার এতটাই যে, পরিচিত অনেকেই মিমকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করছেন টিকেটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য।

ব্যবসায়িক সাফল্যের নতুন নজির

ব্যবসায়িক দিক থেকে ‘পরাণ’ অতীতের অনেক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আয়ের দিক থেকে এটি কালজয়ী ‘বেদের মেয়ে জোছনা’কেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালে এসে বাংলা সিনেমা এমন অভাবনীয় ব্যবসা করবে, তা ছিল অনেকেরই কল্পনার বাইরে। সিনেমার প্রযোজক জানিয়েছেন, লগ্নিকৃত অর্থের পাঁচগুণ টাকা ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে, যা দিয়ে অনায়াসেই আরও তিন-চারটি ভালো মানের সিনেমা নির্মাণ করা সম্ভব। ঢালিউডে যখন সাফল্যের সুবাতাস বইছে, ঠিক তখনই সীমানার ওপারে বলিউডেও সৃষ্টি হয়েছে নতুন ইতিহাস।

বলিউডে ধুরন্ধরের ঐতিহাসিক অর্জন

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে রণবীর সিং অভিনীত স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’। বক্স অফিসে ঝড় তোলা আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা ২’-কে পেছনে ফেলে একক ভাষায় সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় সিনেমার খেতাব দখল করেছে আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবিটি। এই ঐতিহাসিক অর্জনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস (ওয়াইআরএফ) তাদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে ‘ধুরন্ধর’ টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ওয়াইআরএফ তাদের বার্তায় উল্লেখ করেছে, এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। নির্মাতা আদিত্য ধর ও জিও স্টুডিওসকে এই সাফল্যের মূল কারিগর হিসেবে অভিহিত করে তারা লিখেছে, এই সিনেমার ধুরন্ধররাই বড় পর্দায় এমন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে যা সৃজনশীল উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে যেতে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।

পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার

কেবল ভারতেই নয়, উত্তর আমেরিকাতেও বলিউড সিনেমার আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ‘ধুরন্ধর’। স্যাকনিল্কের তথ্যমতে, মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহ শেষে উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির আয় ১৭.৫০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা শাহরুখ খানের ‘পাঠান’-এর রেকর্ডকেও ম্লান করে দিয়েছে। অন্যদিকে, একক হিন্দি ভাষার সিনেমা হিসেবে ‘ধুরন্ধর’ পুষ্পা ২-এর হিন্দি সংস্করণের ৮২১ কোটি রুপির রেকর্ড টপকে গেছে। যদিও পুষ্পা ২ অন্যান্য দক্ষিণী ভাষায় আরও ৪০০ কোটি রুপি আয় করেছিল, তবুও একক ভাষার আয়ে ‘ধুরন্ধর’ এখন শীর্ষে। ভারতে ছবিটির আয় ৭৮১.৭৫ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে এর মোট সংগ্রহ ১২০০ কোটি রুপির ঘর অতিক্রম করেছে।

প্রেক্ষাপট ও আগামীর পরিকল্পনা

২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় রণবীর সিং হামজা নামের এক ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি পাকিস্তানের অপরাধ ও রাজনৈতিক জগতে প্রবেশ করেন। সিনেমার গল্পে ১৯৯৯ সালের আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক, ২০০১ সালের ভারতীয় সংসদে হামলা এবং ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার মতো সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন সারা অর্জুন, অর্জুন রামপাল ও সঞ্জয় দত্ত। দর্শকদের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে নির্মাতারা জানিয়েছেন, এই বছরের মার্চ মাসেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে ছবিটির সিক্যুয়েল। দুই অংশের এই ফিল্ম সিরিজের প্রথম কিস্তিই বুঝিয়ে দিল, ভালো কন্টেন্ট হলে দর্শকরা দেশি বা বিদেশি—সব সিনেমাকেই আপন করে নেয়।