28 জানুয়ারি 2026

শিশুদের জন্য বই ও প্রকাশনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সিউলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘২০২৫ বই, উদ্ভিদ, করাত সম্মেলন’, যা শিশুসাহিত্য এবং প্রকাশনা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার এক নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। এই সম্মেলনে শিশুদের বইয়ের জগতে জাপানের বিখ্যাত বুক কিউরেটর হাবা ইয়োশিতাকা এবং প্রকাশনা শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হবে, যা এই শিল্পের ভবিষ্যত গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিশুদের বইয়ের জগতে নতুনত্বের ছোঁয়া

সিড বুক কালচার ফাউন্ডেশনের ঘোষণা অনুযায়ী, জাপানের প্রখ্যাত বুক কিউরেটর হাবা ইয়োশিতাকা আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর সিউলের ফেরাম টাওয়ারে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তিনি শিশুদের জন্য বই কিউরেশন বা উপস্থাপনার পদ্ধতি ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করবেন।

হাবা ইয়োশিতাকা লাইব্রেরি, হাসপাতাল এবং বাণিজ্যিক স্থানসহ বিভিন্ন জায়গায় বইয়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নতুন অভিজ্ঞতা ও সংযোগ স্থাপনের জন্য পরিচিত। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত স্থপতি আন্দো তাদাওয়ের নকশা করা নাকানোশিমা চিলড্রেন’স বুক ফরেস্ট লাইব্রেরি এবং ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাকামি হারুকি লাইব্রেরির বুক কিউরেশন। তিনি তার কাজকে বর্ণনা করেন এভাবে: “যেহেতু মানুষ এখন আর বইয়ের দোকানে আসে না, তাই আমি বই নিয়ে মানুষের কাছে যাই।” কোরিয়ান ভাষায় অনূদিত তার দুটি জনপ্রিয় বই হলো ‘বই না পড়লেও ক্ষতি নেই’ এবং ‘বইয়ের শব্দ শুনুন’।

এই সম্মেলনে বইয়ের সাথে শিশুদের সংযোগ স্থাপনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী জং জিন-হো, যিনি ‘উপরের দিকে তাকাও!’, ‘প্রাচীর’, এবং ‘তিন সেকেন্ডের ডাইভিং’-এর মতো বইয়ের স্রষ্টা, তার স্থাপত্যবিদ্যার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শিশুদের জন্য বইয়ের স্থানিক নকশার গুরুত্ব তুলে ধরবেন। এছাড়াও, সিড বুক কালচার ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মিন জি-উন এবং কিম দা-উন লাইব্রেরিতে শিশুদের জন্য ওয়ার্কশপের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরবেন, যেখানে শিশুরা শুধু পাঠক নয়, গল্পকার হিসেবেও নিজেদের আবিষ্কার করতে পারে। সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে চলবে এবং নির্বাচিত ১০০ জন বিনামূল্যে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

প্রকাশনা শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগমন

বর্তমান সময়ে বইয়ের জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরি থেকে শুরু করে বিদেশি বই অনুবাদের মতো কাজে AI এখন একটি সাধারণ প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে। প্রকাশনা সংস্থাগুলো বই তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে এরই মধ্যে AI ব্যবহার করছে, তবে এর সম্ভাবনা এখনো অপার।

বইয়ের পরিকল্পনা, পাঠক বিশ্লেষণ, প্রচারণার জন্য কার্ড-নিউজ তৈরি এবং পাঠকের মতামত পর্যালোচনার মতো কাজে জেনারেটিভ AI-এর ব্যবহার নিয়ে একটি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। বইটির লেখক, যিনি নিজে একজন ডেভেলপার এবং প্রকাশনা সংস্থার প্রধান, মনে করেন যে বই মানুষের ‘সংবেদনশীলতা ও অন্তর্দৃষ্টি’ নিয়ে কাজ করলেও, AI-কে সহকর্মী হিসেবে ব্যবহার করলে উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব। বইটিতে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) এবং জেমিনি (Gemini)-এর মতো জনপ্রিয় AI টুলগুলোর ব্যবহারিক উদাহরণ এবং বিভিন্ন কাজের জন্য উপযুক্ত টুলস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা শুধু প্রকাশনা শিল্পের কর্মীদের জন্যই নয়, অন্যদের জন্যও উপকারী হবে।

এই বইটি সিউল বুক ইনস্টিটিউট (SBI)-এর ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ‘বন (本)’ সিরিজের প্রথম বই। প্রকাশনা কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সিরিজের অধীনে আরও কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘মার্কেটিং সহ প্রকাশনা পরিকল্পনা’, ‘বই বিপণনের ১০টি জরুরি বিষয়’, ‘মার্কেটারের বিক্রয়যোগ্য লেখা’ এবং ‘সম্পাদকের জন্য প্রেস রিলিজ লেখার ব্যবহারিক নির্দেশিকা’।