23 জুন 2026

ক্রিকেটের বাইশ গজ থেকে উইম্বলডনের ঘাস: প্রিটোরিয়ার দাপট এবং ধোনি-ফেদেরার সমীকরণ

সৌরভ গাঙ্গুলীর দল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ এসএ২০ (SA20)-তে রীতিমতো উড়ছে। টানা জয়ের হ্যাটট্রিক পূরণ করে তারা এখন পয়েন্ট টেবিলের চূড়ায়। সর্বশেষ ম্যাচে এমআই কেপ টাউনকে ৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে তো হারিয়েছেই, সঙ্গে তুলে নিয়েছে কাঙ্ক্ষিত বোনাস পয়েন্টও। আট ম্যাচ শেষে তাদের ঝুলিতে এখন ২০ পয়েন্ট।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য প্রিটোরিয়ার জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। একটা পর্যায়ে মাত্র ৭ ওভার বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ৮৯ রান তুলে ধুঁকছিল তারা। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন শেরফানে রাদারফোর্ড। ক্যারিবীয় মেজাজে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে মাত্র ২৭ বলে ৫৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। যোগ্য সঙ্গীর মতো ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে নিয়ে মাত্র ৩৪ বলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৬৯ রান। এমআই কেপ টাউনের বাজে ফিল্ডিংও এই বিশাল জুটির পেছনে অনেকাংশে দায়ী। করবিন বশের টানা দুই বলে দুই ব্যাটার জীবন পেলে প্রিটোরিয়ার রান ফুলেফেঁপে ওঠে, তারা পৌঁছায় ৬ উইকেটে ১৮৫-তে। কাগিসো রাবাদার মতো বোলারকে ব্রেভিস যেভাবে দুটো অবিশ্বাস্য ছক্কা হাঁকিয়েছেন—বিশেষ করে ওই ‘নো-লুক’ ফ্লিকটা—তা অনেক দিন চোখে লেগে থাকার মতো। অন্যদিকে ট্রেন্ট বোল্টের এক ওভার থেকেই ১৬ রান আদায় করে নেন রাদারফোর্ড।

ব্যাট হাতে যে দাপট প্রিটোরিয়া দেখিয়েছে, বল হাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গিডিয়ন পিটার্সের ওই ডাবল-উইকেট মেইডেন ওভারটাই এমআই কেপ টাউনের মিডল অর্ডারের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। ৪৬/২ থেকে চোখের পলকে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৫৫/৬! ফিল্ডিংয়েও ব্রেভিস ছিলেন দুর্দান্ত, বাউন্ডারি লাইনে দুটো দারুণ ক্যাচ লুফে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন। রিজা হেনড্রিকস ৫০ বলে অপরাজিত ৬৮ রান করে একাই লড়েছেন বটে, তবে তার দল ১৩২/৭ রানের বেশি এগোতে পারেনি। সৌরভের শিষ্যদের পরবর্তী জোড়া পরীক্ষা বৃহস্পতিবার পার্ল রয়্যালস এবং শনিবার জোহানেসবার্গ সুপার কিংসের বিপক্ষে।

ক্রিকেটের এই আগ্রাসন আর ঠান্ডা মাথার হিসাব-নিকাশ অনেক সময়ই অন্য খেলার কিংবদন্তিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশেষ করে সামনেই যখন উইম্বলডনের মহারণ, তখন টেনিস আর ক্রিকেটের তুলনা টানাটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। সম্প্রতি জিওস্টারের সাথে এক আড্ডায় চেন্নাই সুপার কিংসের কিপার-ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ঠিক এই কাজটাই করেছেন। তার মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের রজার ফেদেরার হলেন এমএস ধোনি। ধোনির ওই অসম্ভব শান্ত মেজাজ আর মাঠে নিজের কাজটা নিপুণভাবে করার ধরন ফেদেরারকেই মনে করায়। স্যামসনের ভাষায়, “ওর পারফরম্যান্স দেখলে মনে হয় কোনো কষ্টই করছে না, অথচ কতটা শক্তিশালী!”

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের উইম্বলডন জয়ী কার্লোস আলকারাজকে স্যামসনের মনে হয়েছে বিরাট কোহলির মতো। ক্যারিয়ারের শুরুতে কোহলি যেমন বিস্ফোরক আর আগ্রাসী ছিলেন, স্প্যানিশ তরুণ আলকারাজের খেলার ধরনেও সেই একই বারুদ দেখতে পান তিনি। মজার ব্যাপার হলো, আলকারাজকে কোহলির সাথে মেলানোর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে জোকোভিচকে হারিয়ে উইম্বলডন জেতার পর স্টেফানোস সিতসিপাসের বিপক্ষে খেলা আলকারাজের পুরোনো একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে ধারাভাষ্যকার খোদ তাকে ক্রিকেটের কোহলি আর বাস্কেটবলের মাইকেল জর্ডানের সাথে তুলনা করছিলেন।

স্যামসনের সেই বিস্ফোরক আলকারাজ অবশ্য এবারের ২০২৬ উইম্বলডনে থাকছেন না। কব্জির চোট তাকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে। তবে আল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাবে আগামী ২৯ জুন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত যে লড়াই বসতে যাচ্ছে, তার উত্তাপ একটুও কমছে না। এরই মধ্যে বাছাইপর্বের খেলা শুরু হয়ে গেছে, আর ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে মূল ড্র।

আলকারাজ না থাকায় পুরুষদের এককে শীর্ষ বাছাই হিসেবে কোর্টে নামবেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনার। তবে শিরোপার দৌড়ে আলেকজান্ডার জভেরেভ এবং চিরসবুজ নোভাক জোকোভিচও বেশ শক্ত অবস্থানে আছেন। মেয়েদের বিভাগে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন আরিয়ানা সাবালেঙ্কা, এলেনা রিবাকিনা এবং গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইগা সোয়াতেক। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এবারের উইম্বলডনের সবচেয়ে বড় চমক সম্ভবত সেরেনা উইলিয়ামস। দীর্ঘ চার বছর পর ওয়াইল্ডকার্ড এন্ট্রি নিয়ে সিঙ্গেলসে ফিরছেন তিনি, আর বোন ভেনাস উইলিয়ামসের সাথে জুটি বেঁধে খেলবেন ডাবলসেও।

শুধু তারকা খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এবারের আসরটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে। উইম্বলডনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘ভিডিও রিভিউ টেকনোলজি’ ব্যবহার করা হবে এবার। আর প্রাইজমানির অঙ্কটাও তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো—রেকর্ড ৬৪.২ মিলিয়ন পাউন্ড, যা খেলোয়াড়দের ঘামের প্রতিটি ফোঁটাকে কোর্টের বুকে আরও বেশি মূল্যবান করে তুলবে।