26 জুন 2026

শিক্ষাব্যবস্থায় জোড়া স্বস্তি: একদিকে ভোটের আগে নিয়োগের তৎপরতা, অন্যদিকে পাঠ্যক্রমে স্বস্তি

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই রাজ্যের শিক্ষা খাতে একটা বড়সড় নড়াচড়া চোখে পড়ছে। নবান্ন থেকে সবুজ সংকেত মেলার পর স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) মার্চ মাসেই গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদের নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১ ও ৮ মার্চ পরীক্ষা দুটো হতে চলেছে। প্রায় ১৬ লাখ চাকরিপ্রার্থী ইতিমধ্যে আবেদন করে বসে আছেন। শূন্যপদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়—গ্রুপ-সিতে ২৯৮৯ এবং গ্রুপ-ডিতে ৫৪৮৮টি পদ। নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়তো ভোটের আগে পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হবে না, তবে লিখিত পরীক্ষাটা যে অন্তত পার করা যাবে, সেই প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে।

শিক্ষা দফতরের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পর এসএসসির বিজ্ঞপ্তি আসতে আর খুব বেশি দেরি নেই। জানা গেছে, গোটা রাজ্যজুড়ে প্রায় দেড় হাজার কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় গ্রুপ-সির জন্য বরাদ্দ থাকছে ৬০ নম্বর, যার জন্য সময় মিলবে ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। অন্যদিকে গ্রুপ-ডির ৪০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সময় বরাদ্দ করা হয়েছে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। তবে এখানে একটা ব্যাপার বেশ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—আগের নিয়োগ দুর্নীতির জেরে যারা ‘দাগি’ বা অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন, তারা কোনোভাবেই এবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন না। কমিশন ইতিমধ্যেই ৩৫১২ জন এমন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ১৩৬৩ জন গ্রুপ-সির এবং ২৩৪৯ জন গ্রুপ-ডির।

রাজ্যের স্কুলগুলোতে যখন কর্মী নিয়োগের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় শিক্ষাবোর্ড সিবিএসই (CBSE) ছাত্রছাত্রীদের একটা বড় দুশ্চিন্তা দূর করে দিল। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) বাস্তবায়নের জেরে ভাষা নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অভিভাবক ও স্কুলগুলোর মধ্যে একটা ধোঁয়াশা কাজ করছিল। তবে বোর্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সপ্তম থেকে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়ারা বর্তমানে যে বিদেশি ভাষার কম্বিনেশন নিয়ে পড়াশোনা করছে, দশম শ্রেণি শেষ করা পর্যন্ত তারা অবলীলায় সেটাই চালিয়ে যেতে পারবে। মাঝপথে আচমকা কাউকে বিষয় বদলানোর ঝক্কি পোহাতে হবে না।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কথা অনুযায়ী, নতুন এই ত্রিভাষা নীতি মূলত ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠা নতুন ব্যাচ থেকে ধাপে ধাপে প্রয়োগ করা হবে। যারা পুরোনো নিয়মে দুটো বিদেশি ভাষা বেছে নিয়েছে, তাদের বর্তমান স্কুলজীবনে কোনো একটা ভাষার বদলে জোর করে অন্য কোনো ভারতীয় ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হবে না। হিসেবটা খুব সোজা—এখন যে নবম শ্রেণিতে পড়ছে, সে ২০২৮ সালের বোর্ড পরীক্ষা পর্যন্ত তার পছন্দের বিষয়গুলো রাখতে পারবে। আর যে এখন সপ্তম শ্রেণিতে আছে, তার ক্ষেত্রে এই সুবিধা মিলবে ২০৩০ সালের বোর্ড পরীক্ষা পর্যন্ত। গোটা ব্যাপারটাই যেন শিক্ষাক্ষেত্রের দুই ভিন্ন মেরুর একটা সার্বিক চিত্র তুলে ধরছে; যেখানে একদিকে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ, আর অন্য প্রান্তে পড়ুয়াদের জন্য নিশ্চিত করা হচ্ছে একটা নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাজীবন।